হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
মজিদুল ইসলাম শাহ
সারসংক্ষেপ
রাজ‘আত হলো কিয়ামতের পূর্বে একদল মৃত মানুষের দুনিয়ায় ফিরে আসা। এটি আহলুল বাইত (আ.)-এর মাযহাবের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস। সত্তরেরও বেশি আয়াত এবং মুতাওয়াতির হাদিসের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়। হাদিসসমূহেও পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর সঙ্গে এই উম্মতের সাদৃশ্য, রাজ‘আত যে খাঁটি মুমিন ও নিরেট কাফিরদের জন্য নির্দিষ্ট, নবী ও আল্লাহর ওলিদের ফিরে আসা এবং সর্বপ্রথম রাজ‘আতকারী হিসেবে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর উল্লেখ—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। ফলে ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না।
উত্তর
ভূমিকা
‘রাজ‘আত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ফিরে আসা। ইসলামী কালামের পরিভাষায় এর অর্থ হলো-সর্বজনীন কিয়ামতের পূর্বে একদল মৃত মানুষের এই পৃথিবীতে ফিরে আসা।
এই বিশ্বাসটি ইসলামের সব ফিরকার মধ্যে অভিন্ন কোনো আকিদা নয়; তবে আহলুল বাইত (আ.)-এর মাযহাবে এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কুরআনের আয়াত এবং মুতাওয়াতির অথবা অন্তত মুসতাফিয হাদিসের ভিত্তিতে এটি প্রমাণিত। এই লেখায় প্রথমে রাজ‘আত-নির্দেশক কুরআনের আয়াতগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে আলোচনা করা হবে। এরপর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো আলোচনা করা হবে।
প্রথম অংশ: কুরআনের আয়াত
কুরআনে সত্তরেরও বেশি আয়াত রয়েছে, যেগুলো কোনো না কোনোভাবে রাজ‘আতের সম্ভাবনা অথবা সংঘটনের প্রতি নির্দেশ করে। এসব আয়াতকে মোটামুটি তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
প্রথম শ্রেণি: মৃতদের জীবিত করার ওপর আল্লাহর ক্ষমতা নির্দেশকারী আয়াত
কুরআনের বহু আয়াতে মৃতদের জীবিত করার ক্ষেত্রে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব আয়াত সরাসরি রাজ‘আত সম্পর্কে নয়, কিন্তু যেহেতু রাজ‘আতও একদল মৃত মানুষকে জীবিত করার একটি ঘটনা, তাই এগুলোকে রাজ‘আতের বুদ্ধিবৃত্তিক ও শরিয়তসম্মত সম্ভাবনার দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায়। যেমন:
﴿قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ﴾
“সে বলে, ‘কে এই হাড়গুলোকে জীবিত করবে যখন এগুলো পচে-গলে গেছে?’ বলুন, ‘যিনি প্রথমবার এগুলো সৃষ্টি করেছেন, তিনিই এগুলোকে জীবিত করবেন। আর তিনি প্রত্যেক সৃষ্টি সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।’” [১]
এবং-
﴿أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى﴾
“তিনি কি মৃতদের জীবিত করতে সক্ষম নন?” [২]
এই দুটি আয়াতে পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের জবাবে পচে যাওয়া হাড়কে জীবিত করার ক্ষেত্রে আল্লাহর ক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেহেতু রাজ‘আত মৃতদের জীবিত করার একটি দৃষ্টান্ত, তাই এগুলো রাজ‘আতের মূল সম্ভাবনা প্রমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে।
দ্বিতীয় শ্রেণি: পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর মধ্যে রাজ‘আত সংঘটনের সঙ্গে সম্পর্কিত আয়াত
কুরআনে পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর মধ্যে একদল মৃত মানুষের জীবিত হওয়ার বিভিন্ন ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোকে রাজ‘আতের সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এসব আয়াতের প্রমাণমূল্য এ কারণে যে, হাদিস অনুযায়ী বনী ইসরাঈলের মধ্যে যা কিছু ঘটেছে, এই উম্মতের মধ্যেও তা ঘটবে।
১. মৃত্যুর ভয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবিত হওয়া
সূরা বাকারা-তে এমন এক হাজারো মানুষের একটি দলের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যারা প্লেগ থেকে বাঁচার জন্য নিজেদের আবাসভূমি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। এরপর আল্লাহ তাদের মৃত্যু ঘটান এবং কিছু সময় পর নবী হিযকীল (আ.)-এর প্রার্থনায় তাদের পুনরায় জীবিত করেন। [৩]
শিয়া ও সুন্নি তাফসিরের কিছু বর্ণনায় এই দলের সংখ্যা তিন হাজার থেকে সত্তর হাজার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। [৪]
২. হযরত মূসা (আ.)-এর সত্তরজন সঙ্গীর জীবিত হওয়া
সূরা বাকারায় বনী ইসরাঈলের কিছু লোকের প্রকাশ্যে আল্লাহকে দেখার দাবি এবং এরপর তাদের মৃত্যু ও পুনরায় জীবিত হওয়ার কথা এসেছে-
﴿وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ثُمَّ بَعَثْنَاكُم مِّن بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾
“আর যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মূসা! আমরা কখনো তোমার প্রতি ঈমান আনব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখি।’ অতঃপর তোমরা তাকিয়ে থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাত তোমাদের পাকড়াও করল। তারপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমরা তোমাদের পুনরায় জীবিত করলাম, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।” [৫]
ইমাম রযা (আ.) ‘উয়ূনু আখবারির রযা’ গ্রন্থে বর্ণিত একটি হাদিসে এই ঘটনার ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সত্তরজনের ওই দলটি বজ্রাঘাতে মারা যায় এবং পরে মূসা (আ.)-এর অনুরোধে জীবিত হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসে। [৬]
শিয়া ও সুন্নি উভয় ধারার গুরুত্বপূর্ণ তাফসিরে এই আয়াতকে রাজ‘আত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। [৭]
৩. একশ বছর পর উযাইর (অথবা ইরমিয়া)-এর জীবিত হওয়া
কুরআনে এমন এক নবীর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যিনি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মনে মনে বলেছিলেন, “আল্লাহ কীভাবে এই মৃতদের জীবিত করবেন?” অতঃপর আল্লাহ তাঁকে একশ বছর মৃত রাখেন এবং এরপর তাঁকে জীবিত করেন। এভাবে তাঁকে তাঁর ক্ষমতার নিদর্শন দেখান-
﴿أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىَ يُحْيِي هَذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ ...﴾
“অথবা সেই ব্যক্তির মতো, যে এমন এক জনপদের পাশ দিয়ে গিয়েছিল, যার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে ছাদের ওপর পড়ে ছিল। সে বলল, ‘আল্লাহ কীভাবে এটিকে মৃত্যুর পর জীবিত করবেন?’ অতঃপর আল্লাহ তাকে একশ বছরের জন্য মৃত রাখলেন, তারপর তাকে পুনরায় জীবিত করলেন...” [৮]
অনেক মুফাসসির-যেমন আল্লামা তাবাতাবায়ী [৯] এবং নাসের মাকারেম শিরাজী [১০]-এই আয়াতকে নিদ্রা নয়, বরং প্রকৃত মৃত্যু এবং এরপর জীবিত হওয়া হিসেবে বিবেচনা করেছেন। কারণ “أَمَاتَهُ” (তাকে মৃত করলেন) এবং “بَعَثَهُ” (তাকে পুনরায় জীবিত করলেন)-এই শব্দদ্বয় মৃত্যু ও জীবিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। তাফসির আল-মানার-এর রচয়িতা রশীদ রযাও আয়াতটির ব্যাখ্যায় একই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
এ ছাড়া হযরত ঈসা (আ.)-এর মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করার ঘটনাসংক্রান্ত আয়াত এবং বনী ইসরাঈলের নিহত ব্যক্তির জীবিত হওয়ার ঘটনাও পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর মধ্যে রাজ‘আতের কুরআনিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। [১১]
তৃতীয় শ্রেণি: ইসলামী উম্মতের মধ্যে রাজ‘আত সম্পর্কিত আয়াত
এই উম্মতের মধ্যে রাজ‘আতের প্রতি ইঙ্গিতকারী গুরুত্বপূর্ণ আয়াতগুলোর অন্যতম হলো-
﴿وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٍ فَوْجًا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِآيَاتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ﴾
“আর যেদিন আমরা প্রত্যেক উম্মত থেকে এমন একটি দলকে সমবেত করব, যারা আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত; অতঃপর তাদের সারিবদ্ধ করা হবে।” [১২]
এই আয়াতে “প্রত্যেক উম্মত থেকে একটি দলকে সমবেত করার” কথা বলা হয়েছে, সকল মানুষকে নয়। যেহেতু কিয়ামতের দিন সব মানুষকে সমবেত করা হবে-
﴿وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا﴾
“আর আমরা তাদের সবাইকে সমবেত করব এবং তাদের কাউকেই বাদ দেব না।” [১৩]
সুতরাং এই “দলগত সমাবেশ” কিয়ামতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে না। আবার কিয়ামতের পর পুনরায় কোনো সমাবেশের ধারণাও গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব, এই আয়াত কিয়ামতের পূর্ববর্তী একটি সমাবেশের প্রতি ইঙ্গিত করে, আর সেটিই হলো রাজ‘আত।
শিয়া মাযহাবের বহু মুফাসসির-যেমন শাইখ তূসী [১৪], তাবারসী [১৫] এবং আল্লামা তাবাতাবায়ী [১৬]-এই আয়াতকে রাজ‘আতের দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
এ ছাড়া আরও কিছু আয়াত রয়েছে, যেগুলো হাদিসের ভিত্তিতে শেষ যুগে রাজ‘আতের প্রতি নির্দেশ করে। সংক্ষিপ্ততার কারণে এখানে সেগুলো উল্লেখ করা হলো না।
দ্বিতীয় অংশ: হাদিসসমূহ
শিয়া হাদিসগ্রন্থ এবং এমনকি আহলে সুন্নাতের কিছু গ্রন্থেও রাজ‘আত সম্পর্কে বহু হাদিস রয়েছে। এগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর সঙ্গে এই উম্মতের সাদৃশ্য
রাসুলুল্লাহ (সা.) ও ইমামগণ (আ.) থেকে এমন বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার ভিত্তিতে পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর মধ্যে যা কিছু ঘটেছে, এই উম্মতের মধ্যেও তা ঘটবে।
উদাহরণস্বরূপ, সহিহ বুখারি [১৭], সহিহ মুসলিমের ‘কিতাবুল ইলম’, মুসনাদে আহমদ [১৮] এবং হাকিম নিশাপুরীর মুস্তাদরাক [১৯]-এ রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে-
«لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ قَبْلَکُمْ...»
“নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ ও রীতিনীতি অনুসরণ করবে...”
এ ছাড়া শিয়া সূত্র-যেমন ‘মান লা ইয়াহদুরুহুল ফকিহ’ [২০], ‘কামালুদ্দীন’ [২১] এবং ‘উয়ূনু আখবারির রযা’ [২২]-এও এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
২. ইমামদের সাহাবিদের মধ্যে রাজ‘আতের বিশ্বাস
আবদুল্লাহ ইবনে আতা ইমাম বাকের (আ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদল ইরাকবাসী ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর কাছে এসে “মৃতদের জীবিতদের সঙ্গে যুদ্ধ” সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল।
ইমাম (আ.) তাঁদের মধ্যে রাজ‘আতের বিশ্বাস জীবিত রয়েছে দেখে আনন্দিত হন এবং তা সমর্থন করেন। এই বর্ণনা ‘মুখতাসারু বাসাইরিদ দারাজাত’ [২৩] এবং ‘বিহারুল আনওয়ার’ [২৪]-এ এসেছে।
৩. মুমিনদের জন্য দুই ধরনের মৃত্যু
কিছু হাদিসে মুমিনদের জন্য দুই ধরনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে-একটি স্বাভাবিক মৃত্যু এবং অপরটি নিহত হওয়া।
যারারাহ ইমাম বাকের (আ.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাকে অবশ্যই দুনিয়ায় ফিরে আসতে হবে, যাতে সে স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে পারে।” [২৫]
এ ছাড়া ইমাম রযা (আ.) একটি হাদিসে বলেছেন:
“রাজ‘আতের সময় যে মুমিন পূর্বজীবনে নিহত হয়েছিল, সে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করবে; আর যে ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছিল, সে নিহত হবে।” [২৬]
৪. রাজ‘আতকারীদের বৈশিষ্ট্য
বহু হাদিসে রাজ‘আতকে খাঁটি মুমিন এবং নিরেট কাফিরদের জন্য নির্দিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। [২৭]
৫. মুমিনের ফিরে আসার ক্ষেত্রে তার ইচ্ছার স্বাধীনতা
মুফাদ্দাল ইবনে উমর ইমাম সাদিক (আ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, ইমামের আবির্ভাবের সময় কবরের মুমিনকে জিজ্ঞেস করা হবে-সে কি দুনিয়ায় ফিরে আসতে চায়, নাকি বরযখেই থাকতে চায়। [২৮]
৬. দাজ্জালের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইমামদের সঙ্গ
আবু হামযা সুমালী ইমাম বাকের (আ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, ইমাম আলী (আ.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি দাজ্জালের সঙ্গীদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায়, সে যেন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে যারা উসমানের রক্তের জন্য কাঁদে অথবা খারিজিদের জন্য কাঁদে।” [২৯]
৭. কিছু রাজ‘আতকারীর নাম ও পরিচয়
মুফাদ্দাল ইবনে উমর ইমাম সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে যে, কুফা থেকে ২৫ জন, আসহাবে কাহফের সাতজন, সালমান ফারসি, মূসা (আ.)-এর সম্প্রদায়ের কিছু ব্যক্তি এবং কয়েকজন নবী রাজ‘আতের সময় ফিরে আসবেন। [৩০]
৮. নবী ও আল্লাহর ওলিদের ফিরে আসা
ফায়য ইবনে আবি শায়বা ইমাম সাদিক (আ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আদম (আ.) থেকে শেষ নবী পর্যন্ত সকল নবী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনবেন এবং দুনিয়ায় ফিরে এসে আমিরুল মুমিনীন (আ.)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করবেন। এই হাদিসের সনদ শক্তিশালী। [৩১]
৯. জিয়ারতনামা এবং রাজ‘আতের স্বীকৃতি
‘উয়ূনু আখবারির রযা’ গ্রন্থে বর্ণিত ‘জিয়ারাতে জামেয়া কাবীরা’-তে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি আমাদের ইমামদের (আ.) রাজ‘আতের সময় তাঁদের সঙ্গে থাকার সৌভাগ্য দান করেন:
«... وَ یَحْشُرُ فِی زُمْرَتِکُمْ، وَ یَکُرُّ فِی رَجْعَتِکُمْ ...»
“...এবং তিনি আমাদের তোমাদের দলের সঙ্গে সমবেত করুন এবং তোমাদের রাজ‘আতের সময় আমাদেরও ফিরিয়ে আনুন...” [৩২]
এ ছাড়া ‘মান লা ইয়াহদুরুহুল ফকিহ’ [৩৩] গ্রন্থেও একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়।
১০. সর্বপ্রথম রাজ‘আতকারী
শক্তিশালী সনদযুক্ত কিছু হাদিসে সর্বপ্রথম রাজ‘আতকারী হিসেবে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। [৩৪]
উপসংহার
কুরআনের আয়াত এবং নির্ভরযোগ্য হাদিসের ভিত্তিতে রাজ‘আত আহলুল বাইত (আ.)-এর মাযহাবের একটি স্বীকৃত মূলনীতি। মৃতদের জীবিত করার ক্ষেত্রে আল্লাহর পরম ক্ষমতা, পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর মধ্যে রাজ‘আতের কুরআনিক বিবরণ, ইসলামী উম্মত সম্পর্কিত বিশেষ আয়াত এবং অসংখ্য হাদিস-এসবের মাধ্যমে রাজ‘আত প্রমাণ করা যায়।
এ বিষয়ে শিয়া হাদিসসমূহ এত বেশি ও বৈচিত্র্যময় যে, ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির জন্য এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ অবশিষ্ট থাকে না।
আপনার কমেন্ট